হাওজা নিউজ এজেন্সি: এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অনেক সময় বাবা-মা সন্তানের এমন আচরণকে স্বাভাবিক দুষ্টুমি বা ভাইদের মধ্যে খুনসুটি বলে মনে করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা সত্য। তবে যদি কোনো শিশু সত্যিই অন্যকে কষ্ট দিয়ে আনন্দ অনুভব করে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি বলেন, অধিকাংশ শিশুর পারস্পরিক খুনসুটি তাদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার অংশ। তাই প্রতিটি ঘটনাকে মানসিক সমস্যার লক্ষণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। তবে আচরণটি যদি বারবার ঘটে এবং অন্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে কষ্ট দেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট হয়, তাহলে তা অভিভাবকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ
১. শাস্তি বা ভয় দেখানো থেকে বিরত থাকুন
শিশুকে বারবার শাসন, হুমকি বা শারীরিক শাস্তি দেওয়া সমাধান নয়। এতে তার আচরণ আরও নেতিবাচক হয়ে উঠতে পারে। তাই ধৈর্য, সংলাপ এবং ইতিবাচক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে আচরণ সংশোধনের চেষ্টা করা উচিত।
২. দলগত খেলাধুলা ও সৃজনশীল কার্যক্রমে যুক্ত করুন
পরিবারে একাধিক সন্তান থাকলে তাদের একসঙ্গে অংশ নিতে পারে—এমন খেলাধুলা ও কার্যক্রমের আয়োজন করা উচিত। সহযোগিতাভিত্তিক খেলায় অংশগ্রহণ শিশুদের পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহমর্মিতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ায়।
এ ধরনের খেলায় শিশুদের সিদ্ধান্ত নেওয়া, পরিকল্পনা করা এবং একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়। এতে তাদের মানসিক বিকাশও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়।
৩. দায়িত্ববোধ ও জীবনদক্ষতা গড়ে তুলুন
সুযোগ থাকলে বড় সন্তানকে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন ইতিবাচক কাজের সঙ্গে পরিচিত করুন। পরিবার বা সমাজের উপযোগী কোনো সেবামূলক বা উৎপাদনমূলক কাজে তাকে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। এতে সে দায়িত্ববোধ, আত্মনির্ভরতা, কর্মদক্ষতা এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
জনাব তারাশিয়ানের মতে, সন্তানের নেতিবাচক আচরণ পরিবর্তনে শাস্তির চেয়ে ইতিবাচক পারিবারিক পরিবেশ, মানসম্মত সময় দেওয়া, দলগত খেলাধুলা এবং বাস্তব জীবনের দায়িত্বশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাই বেশি কার্যকর। পাশাপাশি আচরণগত সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে শিশু-কিশোর মনোবিজ্ঞানী বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আপনার কমেন্ট